কুমিল্লারবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: সামরিক প্রস্তুতি জোরদার যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, কূটনীতির পথ অনিশ্চিত

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ৩:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং ইরানের পাল্টা প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সামরিক উপস্থিতি ও পাল্টা প্রস্তুতি

মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সেনা, রণতরী ও আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লেও, তেহরানও নিজেদের প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও সম্ভাব্য যে কোনো সংঘাতের জন্য সামরিক সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা জোরদার

ইরানের সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে অবস্থিত বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের ফলে উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় বেড়েছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ঢেলে সাজাচ্ছে তেহরান। রাশিয়ার সহায়তায় আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং বিমানঘাঁটি সংস্কারের কাজ চলছে, যাতে আকস্মিক হামলার জবাব দ্রুত দেওয়া যায়।

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

উত্তেজনার মাঝেও সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। তবে আলোচনায় তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ইরান নতুন করে ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ গঠন করেছে। এতে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। তার নেতৃত্বে সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে তৎপরতা

পারস্য উপসাগরে ইরানের নৌ-মহড়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক অনুশীলন নতুন বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz এলাকায় তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যা বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।