কুমিল্লামঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজা ও লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১৫

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসলায়েল। প্রাণঘাতী এই হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া লেবানন-সিরিয়া সীমান্তেও পৃথক ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

 বিবিসি বলছে, রোববার সকালে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, উত্তর গাজায় একটি তাবু শিবিরে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। একই সময়ে গাজার দক্ষিণ অংশে আরেকটি হামলায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, হামাসের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসা যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং এতে কয়েকজন নিহত হয়।

গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েল ও হামাস একে অপরকে দোষারোপ করে আসছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছেন। তবে আল-শিফা হাসপাতালের কর্মীরা বলেন, বিমান হামলার বাইরে আলাদা গোলাগুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ মাসের শুরুর দিকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলার একাধিক ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছিলেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে চালানো হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন সংস্থার ঘোষণা দেন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত এ সংস্থা গাজায় সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখা এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ তদারকির জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের দায়িত্ব পাবে।

আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এ বোর্ডের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সংস্থাটি গাজায় একটি নতুন টেকনোক্র্যাটিক ফিলিস্তিনি সরকার গঠন এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমও তদারকি করবে। বৈঠকের আগে রোববার ট্রাম্প জানান, বোর্ডের সদস্যরা গাজার পুনর্গঠনে ৫ বিলিয়ন ডলার দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে তিনি হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে এগিয়ে আসার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। হামাস এর আগে বলেছিল, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হলে তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না।

এর আগে গত সপ্তাহে ঘোষণা করা হয়, বোর্ড অব পিসের সদস্য ইন্দোনেশিয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ৮ হাজার সেনা গাজায় পাঠাবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর দিয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লেবানন-সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে এ হামলা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, নিহতদের একজন সিরিয়ার নাগরিক। তার নাম খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমদ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার কথা নিশ্চিত করে জানায়, তারা লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি তারা।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, লেবাননের মাজদাল আঞ্জার এলাকায় এ হামলা চালানো হয়। পিআইজে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠন পিআইজে গাজায় হামাসের সঙ্গে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও মিত্র। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের অঅগ্রাসন শুরুর পর ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালায়।

২০২৪ সালের নভেম্বর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর থেকে এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারের বেশি আকাশ ও স্থল হামলা চালিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১১ জন লেবাননি বেসামরিক নাগরিককে ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে বলেও জানানো হয়েছে।