মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ‘শিক্ষা’ হয়ে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সময়ে পারমাণবিক আলোচনা ও সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম মোতায়েন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চাপা টানাপোড়েন চলছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বুঝতে হবে— তিনি যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেন, তবে তা হবে ‘শিক্ষাদানকারী এক লড়াই’। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ‘সবচেয়ে ভালো বিষয়’ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতির মধ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী হিসেবে পরিচিত ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই ওই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। তিনি বলেন, ‘চুক্তি না হলে আমাদের এটি দরকার হবে। খুব শিগগিরই এটি রওনা দেবে।’
এরই মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও একাধিক ডেস্ট্রয়ার জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত মাসে সেগুলো মোতায়েন করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরহিম মুসাভি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘প্রেসিডেন্টের উপযোগী নয়’ এবং ‘বেপরোয়া’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যদি ট্রাম্প যুদ্ধের ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে আলোচনার কথা বলা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া পারমাণবিক কূটনীতির প্রসঙ্গ টেনে এই মন্তব্য করেন।
সর্বশেষ দফার পারমাণবিক আলোচনা গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে অনুষ্ঠিত হয়। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে আট মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা স্থগিত থাকার পর এ বৈঠক হয়।
সম্প্রতি তুরস্কসহ আঞ্চলিক কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমাতে ও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগ নেয়, বিশেষ করে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেয়ার পর। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনা মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যু সমাধানে চুক্তি করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিকতা দেখাতে হবে। তার ভাষায়, ‘এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তারা যদি আন্তরিক হয়, তবে আমরা অবশ্যই সমঝোতার পথে এগোতে পারব।’












