কুমিল্লাবুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়ে এনসিপি-বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ আহত ১৩

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ ৭:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি অভিযোগ করেন, আগের দিন আটোয়ারীতে তার শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিএনপির জনসভার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল। এরপরই তার সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।

সারজিস আলম বলেন, ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নে তার নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার সময় ভ্যান ও পিকআপ আটকে তাদের ওপর হামলা করা হয়। একটি ছোট ব্যানারকে কেন্দ্র করে অযথা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এনসিপি বা জোটের কেউ কখনও ব্যানার ছেঁড়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো রিং ব্যবহার করে হামলা চালান। এতে এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে এবং সেলাই দিতে হয়। বর্তমানে চারজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং আরও চারজন চিকিৎসা নিয়েছেন।

সারজিস আলমের দাবি, ঘটনার পর বিএনপির কিছু নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘নাটক’ শুরু করেন এবং কেউ আহত না হলেও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ভাষ্য, ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্র বিমুখ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বিএনপির ৩০-৫০ জন করে নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং তার গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়। গাড়িতে ক্যামেরা থাকায় পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, হামলায় মানুষ রক্তাক্ত হলেও প্রশাসন কেবল ‘হাত মেলানোর’ মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা না নিলে তারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্রার্থীর ব্যানার ছেঁড়ার প্রতিবাদ করতে গেলে জামায়াত-এনসিপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। ধামোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের নির্বাচনী এজেন্ট ব্যারিস্টার নওফল জমির বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ বিষয়ে আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।