কুমিল্লাসোমবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমিই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলাম: অলি

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৫:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম দাবি করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করার আহ্বান তিনিই জানিয়েছিলেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের সমর্থনে মহেশখালীর হোয়ানকে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

ড. অলি আহমেদ বলেন, “আমি নিজেই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলাম। তখন আমাদের মধ্যে সিনিয়র ছিলেন মেজর মীর শওকত, যিনি পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। তিনি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন—এই অফিসার, অর্থাৎ কর্নেল অলি, জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতা ঘোষণা করতে বলেছিলেন। আমি যদি তাকে দেওয়ানহাট থেকে সরিয়ে না আনতাম, তাহলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাকে হত্যা করে কর্ণফুলী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো।”

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম বিদ্রোহের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ যুদ্ধ। জীবনের প্রথম যুদ্ধ করেছিলাম আপনাদের স্বাধীন করার জন্য ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ হিসেবে। প্রথম বিদ্রোহ আমিই করেছিলাম—আমার আগে কেউ বিদ্রোহ করতে পারেনি।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার কাছে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রমাণ রয়েছে। “আমি পিএইচডি করে এসব প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। এসব ডকুমেন্ট আর্মি হেডকোয়ার্টারেও সংরক্ষিত আছে এবং এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাওয়া যায়। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে—২৫ মার্চ অর্থাৎ ২৬ মার্চ রাতেই ক্যাপ্টেন অলি আহমেদ ৮ম বেঙ্গল নিয়ে বিদ্রোহ করেন। এই লেখাটি জিয়াউর রহমানের নিজের হাতের লেখা,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে বিএনপির একটি অংশের সমালোচনা করে কর্নেল অলি বলেন, “বিএনপির কিছু অশিক্ষিত লোক জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে নিয়ে ঠাট্টা করে। তারা লেখাপড়া না করে সারাদিন চাঁদা তোলে।”

পথসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “আপনারা হামিদুর রহমান আযাদের ওপর আস্থা রাখুন। তিনি নির্বাচিত হলে দেশের শীর্ষ মন্ত্রীদের একজন হবেন। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। আমি যেদিন বিএনপি ছেড়ে এসেছি, সেদিন থেকেই তাদের পতনের সূচনা হয়েছে। দালালদের সরকার আর এ দেশে চলবে না।”

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “দাঁড়িপাল্লার বিজয় মানেই মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মানুষের বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়। আমরা ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।”

পথসভায় জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।