কুমিল্লারবিবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসরাইলের কারাগার থেকে ৫৪ ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইসরাইলের জেল থেকে ৫৪ ফিলিস্তিনির লাশ এবং মানব দেহাবশেষসহ ৬৬টি বাক্স গাজায় ফিরিয়ে দিয়েছে দখলদার দেশটি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে এই লাশগুলো গাজার আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাশ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ফরেনসিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসা দল অনুমোদিত চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করে মরদেহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে নিহতদের পরিবারদের লাশ শনাক্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষায়িত কমিটি মরদেহগুলোর নথিভুক্তকরণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের মতে, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইলের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের মধ্যেই এই মরদেহ হস্তান্তরের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও বুধবার ভোরে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

চিকিৎসা সূত্র জানায়, হামলাগুলো বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু, একটি বাড়ি এবং বেসামরিক মানুষের সমাবেশকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার স্ট্রিট-৫ সংলগ্ন এলাকায় গোলাবর্ষণে একজন প্যারামেডিকসহ দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত জানুয়ারি মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর বিধান রয়েছে।

ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, লাশ হস্তান্তর হলেও ইসরাইলি হামলা ও সহিংসতা চলছেই। এতে গাজার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। হস্তান্তরকৃত মরদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিহতদের পরিবারদের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনের পক্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, দখলদার শক্তির দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং লাশ হস্তান্তরের সঙ্গে সহিংসতা বন্ধ করা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লাশের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে যথাযথভাবে পরিবারদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়া মরদেহের সঠিক শনাক্তকরণ, নিহতদের বয়স, লিঙ্গ এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সহায়তা করবে।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের এই ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি গাজার দিকে যাচ্ছে। লাশ হস্তান্তর মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত হলেও সহিংসতা থামছে না।