কুমিল্লা
কুমিল্লায় চিনি বোঝাই ট্রাক লুটের উদ্দেশ্যে চালক আলাউদ্দিনকে হত্যা করার ঘটনায় মূল হোতা নূর হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে লুটকৃত চিনি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত। রবিবার বিকেল থেকে শুরু করে সোমবার সকাল পর্যন্তু অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন নোয়াখালী জেলার শুধারাম থানার ধর্মপুর এলাকার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে নূর হোসেন মুন্না (২৮), চট্রগ্রাম জেলার ভুজপুর থানার হারুয়াল ছরি এলাকার রূপম বরুয়ার ছেলে মিন্টু বরুয়া (৩৬), কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা গ্রামের মনে মফিজুর রহমানের ছেলে শাহাদাত হোসেন রকি (২৬) যার বিরুদ্ধে পূর্বে দুটি মামলা রয়েছে, ফেনি জেলার সদর থানার ইজ্জতপুর গ্রামের তাহেরুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৫৫) এবং কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার বসন্তপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে মো: বাবলু (৩৯) তার বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত আলাউদ্দিন (৩১) চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে প্রায় ২৭ মেট্রিক টন চিনি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গত ১৫ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের বুড়িচং-চৌদ্দগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকটি নিখোঁজ হয়। পরদিন ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন জগন্নাথ দীঘির পাড় এলাকা থেকে ট্রাকচালক আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর ট্রাকটি এবং চিনি লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরবর্তীতে ট্রাকের মালিক নজরুল হোসেন বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে জেলা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, লুটচক্রের মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন। তার নেতৃত্বেই চালককে হত্যা করে ট্রাক ছিনতাই করা হয়। পরে লুটকৃত চিনি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও মজুত করা হয়।
পুলিশের অভিযানে প্রায় ১৯ বস্তা চিনি (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি), খালি চিনি বস্তা, প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত দুটি ইলেকট্রিক মেশিনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো: আনিসুজ্জামান জানান, এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে












