কুমিল্লাশুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে স্বামীকে হত্যা, নেপথ্যে স্ত্রী ও প্রেমিক

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৭:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কৃষক দানিয়ুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়ার বাধা সরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। খুনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য রীতিমতো নকশা (ছক) ও শর্ট ভিডিও তৈরি করেছিল ঘাতকরা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী, তার পরকীয়া প্রেমিক ও ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহতের স্ত্রী মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), তার পরকীয়া প্রেমিক দিনাজপুর জেলা শহরের মহারাজা মোড় এলাকার আলহাজ্ব রজব আলী মোল্লা শাহ্ আলম কল্লোল (৫৬) ও ভাটাটিয়া খুনি বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত মামলাটি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায় শনাক্ত করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের একটি টীম খুলনা ও বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে ১৬ জানুয়ারি তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আবু বক্কর ওরফে বাদশাকে র‍্যাব-৬ এর সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকা থেকে শাহ আলম কল্লোলকে এবং পরবর্তীতে বীরগঞ্জের আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা হওয়ায় শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পরস্পর যোগসাজশে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া করেন। ঘটনাস্থল সম্পর্কে পূর্বপরিচিতি ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে অপরাধীরা ভোররাতে দানিয়ূলের বাসায় প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় শাহ আলম কল্লোল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, নিহত দানিয়ূল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। তিনি বীরগঞ্জ উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের আরাজি চৌপুকুরিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের ছেলে। গত ১৩ জানুয়ারি ভোররাতে নিজ শয়নকক্ষে গলা কাটা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি ছিল চাঞ্চল্যকর, রহস্যজনক ও ক্লুলেস। এই ঘটনায় তদন্ত করে আরও জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশ।