আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যদিও মার্কিন শ্রমবাজারের শক্ত অবস্থানের পর সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে এক সপ্তাহের প্রায় সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল স্বর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যেই শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মূল্যবান এই ধাতুর দাম বেড়েছে। মূলত বিনিয়োগকারীরা মার্কিন মূল্যস্ফীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং এই সময়টিতে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ায় দাম বাড়ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৭৯ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে এপ্রিলে সরবরাহযোগ্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রডা বলেন, বাজারে অনেক বেশি অস্থিরতা এবং ৫ হাজার ডলারের মতো বড় মানসিক সীমা বিনিয়োগকারীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে এক সপ্তাহের কাছাকাছি সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায় এবং প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। রডা বলেন, ‘গত রাতে ইকুইটি বাজারের সঙ্গে সঙ্গেই মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম কমেছে। এর পেছনে তেমন কোনও বড় সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা ছিল না।’
স্থানীয় সময় গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এতে ধারণা জোরদার হয়েছে যে নীতিনির্ধারকেরা হয়তো আরও কিছু সময় সুদের হার উচ্চ রাখবেন। এর ফলে সোনার ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজারের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে দু’দফা সুদ কমানো হতে পারে এবং এর প্রথমটি আগামী জুন মাসে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত সুদ কম থাকলে সুদবিহীন সোনার চাহিদা বাড়ে।
এদিকে দামের টানা অস্থিরতায় কেনাকাটা কমে যাওয়ায় এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ভারতে সোনা ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চন্দ্র নববর্ষের ছুটিকে সামনে রেখে চীনা বাজারে সোনার চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে।
এছাড়া স্পট সিলভারের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৮ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৩ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।












