পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাত্র ১৪ মাস আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের গাব্দের গাঁও গ্রামের প্রবাসী হাফেজ মো. সোহেল হোসেন (৩৬)।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় আনুমানিক সকাল ১১টার দিকে সৌদি আরবের দাম্মাম এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন সোহেল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবরটি প্রথমে সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছায়। এ সংবাদ শুনেই স্ত্রী, মা-বাবা ও স্বজনরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত সোহেল হোসেন তিন সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স ১০ বছর, ছেলে ৭ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স মাত্র আড়াই বছর। তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। পরিবারের একমাত্র ভরসা হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মাও ভেঙে পড়েছেন।
সোহেলের বোন সুমি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, অনেক কষ্ট করে, ধার-দেনা করে ভাইকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। প্রথম কয়েক মাস কাজ না পেয়ে খুব কষ্টে ছিল। পরে আরও টাকা খরচ করে অন্যের মাধ্যমে কাজ নেয়। সব সময় টেনশনে থাকতো ঋণের বোঝা আর পরিবারের দায়িত্ব তাকে ভীষণ চাপের মধ্যে রেখেছিল। এখন আমরা কাকে নিয়ে বাঁচবো?।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল গাব্দের গাঁও গ্রামের হাউ বাড়ির হোসেন মিয়ার একমাত্র ছেলে। পরিবারের হাল ধরতেই তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই পথেই ঝরে গেল তার জীবন।
এদিকে, এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সোহেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। নিহত প্রবাসীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং মরদেহ দেশে আনার ক্ষেত্রে যেকোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি।














