কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সৌদি অর্থ, পাক পরমাণু ও নিজেদের অস্ত্রশিল্পের সমন্বয়ে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের পথে আঙ্কারা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৩:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে আলোচনায় বসেছে তুরস্ক। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থাটি ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কাঠামোর মতো, যেখানে জোটভুক্ত কোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথমে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে হওয়া এই নিরাপত্তা সমঝোতা এখন আঙ্কারাকে ঘিরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। উদীয়মান এই কাঠামোয় দায়িত্ব বণ্টনের ধারণাও স্পষ্ট হচ্ছে। এতে সৌদি আরব আর্থিক সহায়তা দেবে, পাকিস্তান যোগ করবে তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও জনবল, আর তুরস্ক যুক্ত করবে আধুনিক সামরিক দক্ষতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প। আঙ্কারাভিত্তিক থিংকট্যাংক টেপাভের কৌশল বিশ্লেষক নিহাত আলী ওজকান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওজকান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের এবং ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক সংঘাতের পরিবর্তিত বাস্তবতা ও পরিণতি দেশগুলোকে নতুনভাবে বন্ধু ও প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করার কৌশল খুঁজতে বাধ্য করছে। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন ধরনের নিরাপত্তা জোটের ভাবনা সামনে আসছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমেই একত্রিত হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই তিন দেশের মধ্যে জোট সম্প্রসারণকে।

ইতোমধ্যেই তিন দেশের মধ্যে সামরিক সমন্বয় বাড়তে শুরু করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় প্রথমবারের মতো দেশ তিনটির নৌবাহিনীর অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি যৌথ বৈঠক।

এই সম্ভাব্য জোটের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় তুরস্কের অবস্থানের কারণে। তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর দীর্ঘদিনের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী। ফলে কোনো নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় তুরস্কের সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

সৌদি আরব ও তুরস্ক—উভয় দেশের মধ্যে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। যদিও তারা সামরিক সংঘাতের বদলে তেহরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। পাশাপাশি তারা একটি স্থিতিশীল, সুন্নি নেতৃত্বাধীন সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষেও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও সুপ্রতিষ্ঠিত। তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য নির্মাণ করছে করভেট যুদ্ধজাহাজ, আধুনিকীকরণ করেছে পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং রিয়াদ ও ইসলামাবাদের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তিও সরবরাহ করছে। পাশাপাশি তুরস্কের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান পরে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে ভারতের চালানো অপারেশনকে কেন্দ্র কর শুরু হওয়া ওই সংঘাত চলাকালে তুরস্ক প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।