মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সিরিয়ার দিক থেকে লেবাননে হামলার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে সিরিয়ায়। অর্থাৎ যুদ্ধ এখন সীমান্ত পেরিয়ে যে একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্রথমবারের মতো সিরিয়ার দিক থেকে সীমান্ত পেরিয়ে লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা সিরিয়ার হারমোন পর্বতের দিক থেকে পার্বত্য এলাকা পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ লেবাননের মাউন্ট দোভ অঞ্চলে প্রবেশ করে।
এই অগ্রযাত্রাকে তারা ‘বরফের মধ্য দিয়ে হারমোন পর্বত (সিরিয়ার অংশ) থেকে মাউন্ট দোভ (হার দোভ) এলাকায় পৌঁছানো’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মাউন্ট দোভ এলাককা শেবা ফার্মস নামেও পরিচিত, এটি লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তের একটি বিতর্কিত এলাকা। এটি বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও লেবানন এটির মালিকানা দাবি করে থাকে।
এর আগে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছিল, সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে লেবাননে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
এদিকে সিরিয়া জানিয়েছে, ইরাক থেকে আসা একটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে তারা। সিরিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই ডোন হামলা চালানো হয়েছিল।
সিরিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হেমো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে জানান, ‘আজ আমাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত কাসরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরাক থেকে চারটি ড্রোন হামলা চালানো হয়’। তিনি বলেন, ‘সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের হামলার জন্য আমরা ইরাককে দায়ী করছি এবং যেন এর পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এর একদিন আগে সিরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইরাক থেকে আসা আরেকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আল-তানফ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ওই হামলাটি চালানো হয়েছিল। মূলত ওই ঘাঁটিতে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করত।
ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও ওই অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে আসছে। একইসঙ্গে এসব গোষ্ঠীকেও লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।












