দেশে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরো বিস্তৃতি লাভ করেছে। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে এখন শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট। গতকাল মঙ্গলবার যেখানে দেশের ৯টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল, আজ বুধবার তা বেড়ে ৪টি বিভাগসহ অন্তত ১২টি জেলায় বিস্তার লাভ করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শৈত্যপ্রবাহ বাড়লেও তুলনামূলক কমেছে শীতের অনুভূতি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বর্তমানে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়েও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব চলছে। এসব এলাকায় ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশার উপস্থিতি রয়েছে।
চলমান এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রায় সামান্য ওঠানামা হতে পারে। তবে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার আধিক্য বজায় থাকতে পারে।
বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে রাজশাহী বিভাগে।
ধারাবাহিকভাবে তিন দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় এ অঞ্চলে। সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৭ ডিগ্রিতে। গতকাল বুধবার রাজশাহীর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, শৈত্যপ্রবাহের এলাকা বাড়লেও শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে কমেছে। দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের কারণে কুয়াশার পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে।
কুয়াশা কম থাকায় দিনের বেলায় সূর্যের তাপ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি কমার সুযোগ পাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়লে শীতের তীব্রতা অনুভূত কম হয়।












