কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুসন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়ে থানায় হাজির মা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে শিশুটি

নওগাঁর পত্নীতলায় ব্রিজ থেকে ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তানকে নদীতে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সন্তানকে পানিতে ফেলে দেওয়ার পর থানা পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের গ্রেপ্তার দাবি করেন ওই মা।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলার আত্রাই নদীর মাহমুদপুর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনা জানতে পেরে থানা পুলিশ এবং স্থানীয়রা শিশুটিকে ঘটনাস্থল থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। বর্তমানে শিশুটি পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।

পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একজন মহিলা থানায় এসে জানায় তিনি তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা শিশুকে ব্রিজ থেকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে পুলিশের কাছে নিজের গ্রেপ্তার দাবি করেন। ঘটনাটি শোনামাত্র পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে খমির শেখ নামক একজন ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক শুশ্রূষা করেন। পরে পুলিশ তার কাছ থেকে শিশুটিকে হেফাজতে নিয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই মহিলা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত।

এদিন বিকেলে পেশাগত কাজে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পত্নীতলা থানা পরিদর্শনে যান। বিষয়টি শুনে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যান। শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করায় খমির শেখকে আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী কিছুদিন যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। যার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মা থানায় এসে বলেন তিনি তার ১৬ মাস বয়সী নিজ সন্তানকে আত্রাই নদীর পানিতে ফেলে দিয়েছেন। ঘটনা নিশ্চিতে আমরা তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। কথা বলে জানতে পারি তিনি সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। পুলিশের একটি টিমসহ আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত রয়েছে।’

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরে শিশুটিকে দেখতে হাসাপাতালে গিয়েছিলাম। ওই শিশুকে পানি থেকে উদ্ধার করে একজন ব্যক্তিকে খুশি হয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা শিশুটির নিরাপত্তা এবং তার মায়ের মানসিক চিকিৎসা করাবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।