পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শহীদ হন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। সেই থেকে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
আসাদ দিবস উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শহীদ আসাদ দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদ আসাদ এদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী, মুক্তিকামী মানুষের মধ্যে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তার আত্মত্যাগ আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করতে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। এর প্রমাণ জুলাই-আগস্টে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থান। শহিদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।’
এদিকে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় বিএনপি, ৯০’র ডাকসু ও শহীদ আসাদ পরিষদের উদ্যোগে এই পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এ সময় বিএনপি, ৯০’র ডাকসু ও শহীদ আসাদ পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শহীদ আসাদ দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতার ১১-দফা দাবির মিছিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনের রাস্তায় গুলি চালায় পুলিশ। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ।
শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা। বাঙালির স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করে, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই গণঅভ্যুত্থানটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে ৬৯’এর গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত।












