বিশ্বজুড়ে পবিত্র রমজান মাস পালন করছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা। এ সময়ে বিভিন্ন দেশের ফুটবল লিগে রোজাদার খেলোয়াড়দের ইফতারের জন্য স্বল্প বিরতির ব্যবস্থা থাকলেও ফ্রান্সের শীর্ষ প্রতিযোগিতা লিগ ওয়ান–এ এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সুযোগ নেই। তবে এক খ্রিষ্টান ফুটবলারের মানবিক উদ্যোগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এফসি নঁতে ও লে হাভরে এসি–এর ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে নঁতের গোলরক্ষক অ্যান্থনি লোপেজ হঠাৎ হ্যামস্ট্রিং চোটের ইঙ্গিত দিয়ে মাঠে বসে পড়েন। এতে চিকিৎসক দল মাঠে প্রবেশ করলে খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
এই সংক্ষিপ্ত বিরতিতে নঁতের মুসলিম খেলোয়াড়রা টাচলাইনে গিয়ে পানি ও খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর লোপেজের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়। ম্যাচে নঁতে ২-০ গোলের জয় পেলেও তারা এখনও রেলিগেশন জোনে রয়েছে। ২৩ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দলটির অবস্থান ১৭তম, আর ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ১৩তম স্থানে রয়েছে লে হাভরে।
বিদেশি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি ফুটবলের নিয়মে ধর্মীয় কারণে খেলা থামানোর অনুমতি নেই। তাই লোপেজকে এমন কৌশল নিতে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ–এ ২০২১ সাল থেকে সূর্যাস্তের সময় রোজাদার খেলোয়াড়দের ইফতারের সুযোগ দিতে রেফারিরা স্বল্প সময়ের বিরতির অনুমতি দিয়ে আসছেন। গোলকিক বা থ্রো–ইনের মতো স্বাভাবিক বিরতির সময় খেলোয়াড়রা টাচলাইনে গিয়ে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে পারেন।
ফরাসি লিগে আনুষ্ঠানিক নিয়ম না থাকলেও সতীর্থদের জন্য এমন মানবিক উদ্যোগ নেওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনায় উঠে এসেছেন লোপেজ। বিরতির পর তিনি স্বাভাবিকভাবেই খেলায় ফেরেন এবং ম্যাচ শেষ করেন।
রোজার সময় প্রিমিয়ার লিগে গোলকিক বা থ্রো–ইনের মতো স্বাভাবিক বিরতির সময় খেলোয়াড়রা টাচলাইনে গিয়ে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করতে পারেন। ফরাসি লিগে সেই নিয়ম না থাকা সত্ত্বেও সতীর্থদের রোজা ভাঙার সুযোগ করে দেওয়ায় প্রশংসা কুড়াচ্ছেন লোপেজ। অল্প সময় পরই নঁতের এই পর্তুগিজ গোলরক্ষক উঠে দাঁড়ান এবং কোনো দৃশ্যমান অস্বস্তি ছাড়াই খেলা চালিয়ে যান। একইভাবে খেলায় ফেরেন বাকি ফুটবলাররা।












