জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় ট্রাইব্যুনালের কাঠ গড়ায় উপস্থিত ছিলেন আটজন আসামি। রায়ে একে একে দণ্ড ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচলিত হয়ে পড়েন আসামিরা। মৃত্যুদণ্ডের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক। ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়া থেকে বের হওয়ার সময় উচ্চস্বরে তিনি বলেন, ‘এএসআই মনির আগুন দিয়েছে রাজসাক্ষী (এসআই শেখ আবজালুল হক) জড়িত ছিল। মিথ্যা মামলায় কেন সাজা দিল? যারা জড়িত, তাদের আনা হয়নি। আল্লাহ বিচার করবে। আমি আগুন দেইনি। আগুন দিয়েছে কনস্টেবল মামুন, আর কাঠ দিয়েছে কনস্টেবল জুয়েল। এ ছাড়া আগুন দেওয়া এএসআই মনিরকে সাক্ষী বানানো হয়েছে।’
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুজনের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ক্ষমা পেয়েছেন রাজসাক্ষী আবজালুল হক। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে এ মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহতের পর লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া আবজালুল হককে ক্ষমা করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক এসআই আবদুল মালেক ছাড়াও রয়েছেন সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এ এফ এম সায়েদ রনি, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস
এ ছাড়া সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে। ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
এই মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন আটজন। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল হোসেন ও কনস্টেবল মুকুল। রায় ঘোষণার সময় তাদের হাজির করা হয়। এ ছাড়া সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন এখনো পলাতক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশ গুলি চালানোর পর ছয় তরুণকে ভ্যানে তুলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাতে ছয়জনের দেহ আগুনে পুড়ে যায়। তবে পোড়ানোর সময় একজনের দেহে প্রাণ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ২ জুলাই এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তা আমলে নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ পলাতক থাকা আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়।












