এএফসি নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে লড়াইটা যে কঠিন হবে, তা আগেই অনুমেয় ছিল। তবু অভিষেক ম্যাচে সাহসী ফুটবল খেলেই প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলার মেয়েরা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ওয়েস্টার্ন সিডনিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। দুই গোলই আসে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকা চীন ম্যাচজুড়ে বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখলেও শুরুতে দৃঢ় রক্ষণে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা পরিকল্পিত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলতে নেমে প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হয়। তবে ৪৪ মিনিটে ওয়াং সুয়াং দূরপাল্লার শটে জাল খুঁজে পেলে এগিয়ে যায় চীন। এর দুই মিনিট পর ঝ্যাং রুইয়ের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
আক্রমণে সুযোগ কম পেলেও বাংলাদেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে। ঋতুপর্ণার একটি শক্তিশালী দূরপাল্লার শট চীনের গোলরক্ষক কষ্টে ঠেকান, যা ম্যাচে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা সুযোগ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধে চীনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলেও আর গোল হজম করেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত জাল অক্ষত রেখেই ম্যাচ শেষ করে তারা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীন ৫৯ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৬টি শট নেয়, যার ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ৮টি শট নিয়ে ২টি অন টার্গেট করতে সক্ষম হয়।
হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও অভিষেক ম্যাচে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও সাহসী পারফরম্যান্সে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় তাদের পরবর্তী ম্যাচে প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া।












