মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ফারহান-০৪ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মার্চ রোববার দুপুরে আমার বোনকে (১৭) হাতিয়া তমুরদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে ফারহান-০৪ নামক লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে দেন আমার বাবা। ঠিক একই সময় ওই লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন (২৬) ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু (৩২)। লঞ্চ ছাড়ার কিছু সময় পরে তারা আমার বোনের কেবিনের দরজা নক করে এবং তারা আমার বাবাকে চিনেন বলে জানায়। এরপর তাদের কাছে থাকা মোটরসাইকেল ক্রয়ের বেশ কিছু টাকা নিরাপত্তার স্বার্থে আমার বোনের কেবিনে রাখার জন্য অনুরোধ করলে আমার বোন সরল বিশ্বাসে তাদের টাকা কেবিনে রাখেন।
এজাহারে বলা হয়, পরে তারা কৌশলে আমার বোনের কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করে আমার বোনের বেডে বসে পড়ে। আমার বোনের সঙ্গে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন আমার বোনকে বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দিলে আমার বোন রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা আমার বোনের গলা ও মুখ চেপে ধরে। তখন মিঠু আমার বোনের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন কেবিনের দরজা বন্ধ করে আমার বোনকে ধর্ষণ করেন।
ভিকটিমের ভাই এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় আমার বোন ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন এ ঘটনা কাউকে জানাইলে আমার বোনকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে কেবিন থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ৮টার দিকে সাকিব ও মিঠু আবারও কেবিনে প্রবেশ করলে আমার বোন চিৎকার করার চেষ্টা করলে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ভিকটিমকে আবার ধর্ষণ করে তারা। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিম অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গতকাল রাতে তাদের নামে মামলা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের কোর্টে হাজির করা হবে।


.












