দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ঘিরে গড়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ। কোথাও রেললাইনের ওপর বসেছে বাজার, কোথাও আবার মানুষ নির্বিঘ্নে হেঁটে চলাচল করছে—যা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে এসব নিয়ম মানার প্রবণতা খুবই কম, ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।
রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে রেললাইনে বসা বা চলাচলের সময়। এছাড়া কানে ইয়ারফোন ব্যবহার করে অসতর্ক অবস্থায় লাইনে থাকার কারণে মারা গেছেন ১৬৬ জন।
রেলক্রসিংয়েও চিত্র উদ্বেগজনক। গেট নামার পরও ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের চেষ্টা করতে গিয়ে গত পাঁচ বছরে ১ হাজার ৬৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডও থেমে নেই—এ সময়ে ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন অন্তত ৬৯ জন।
বর্তমানে চালু থাকা ১৮৯০ সালের আইনে রেলসীমায় অনধিকার প্রবেশের জন্য সামান্য জরিমানার বিধান থাকলেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। নতুন আইনের খসড়ায় জরিমানা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে সারা দেশে ১ হাজার ৯৩৪টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৭২৫টিই অবৈধ। অনেক স্থানে নেই গেটম্যান, আবার কোথাও মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত রেলপথেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এসব কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ বলছে, জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রেললাইনে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও জনসচেতনতার অভাব ও নিয়ম না মানার প্রবণতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, এর কঠোর প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি—দুইয়ের সমন্বয়েই দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। অন্যথায় রেললাইনে এই মৃত্যুমিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।
কুমিল্লা প্রেস সংবাদ দেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সাবস্ক্রাইব করে কুমিল্লা প্রেসের সাথেই থাকুন।














