পুনর্লিখিত সংবাদ (জাতীয় পত্রিকার ধাঁচে):
দেশের পূর্বাঞ্চল রেলপথে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সাম্প্রতিক কুমিল্লার পদুয়া বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে রেলপথের নিরাপত্তা ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা।
গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামসহ পূর্বাঞ্চলে একাধিক বড় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালে মীরসরাইয়ে ট্রেন-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত, ২০২৩ সালে ভৈরবে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৯ জন এবং কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৮ বছরে অন্তত ৮টি বড় দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬৭ জনের, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায় চাপানো হয় নিম্নস্তরের কর্মীদের ওপর। লোকোমাস্টার, গার্ড বা গেটম্যানদের অবহেলা দায়ী করা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পেছনে অবকাঠামোগত দুর্বলতা বড় কারণ। পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ রেললাইন মিটার গেজ এবং এর বড় অংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। লোকোমোটিভ ও কোচের উল্লেখযোগ্য অংশও অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে।
এছাড়া লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। পূর্বাঞ্চলে ১ হাজার ২৩০টি ক্রসিংয়ের মধ্যে অধিকাংশই অরক্ষিত বা গেটম্যানবিহীন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার নতুন রেলপথেও অধিকাংশ ক্রসিংয়ে নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে অবহেলা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন পরিদর্শনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। অনেক স্থানে স্লিপার দুর্বল, পাথরবিহীন লাইন, ত্রুটিপূর্ণ সিগন্যাল ও যন্ত্রাংশের ঘাটতি দেখা যায়।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় গেটম্যানদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তদন্ত কমিটি নয়—দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন ছাড়া রেলপথে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।


.












