টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করে বেশ কয়েকটি রেকর্ড গড়লেন ইউভরাজ সিং সামরা, যার নাম রাখা হয়েছে ভারতীয় গ্রেট ইউভরাজ সিংয়ের নামে।
ইউভরাজ সিং বলতে এত দিন ধরে একজনকে চিনে এসেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এবার আরেকজনকে চেনার পালা। নামের কারণে এমনিতেই তিনি নজর কেড়েছেন বেশ। নামের পেছনের গল্পটা ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিচিতিও বেড়েছে আরেকটু। তবে স্রেফ নাম দিয়ে পরিচয় তো ঠুনকো। ইউভরাজ সিং সামরা এবার ব্যাট হাতেই এমন কীর্তি গড়লেন যে, তাকে মনে রাখতেই হবে!
এবারের বিশ্বকাপে মাঠে নেমেই একটি মাইলফলক তার ধরা দিয়েছিল। এই আসরের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার তিনি। সেই প্রাপ্তিকে এবার রেকর্ডের অর্জনে রূপ দিলেন কানাডার ওপেনার। উপহার দিলেন তিনি দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে ৬৫ বলে ১১১ রানের ইনিংস খেলেন ইউভরাজ। ১১টি চারের সঙ্গে আধ ডজন ছক্কা মারেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব আসর মিলিয়ে সহযোগী কোনো দেশের ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটিই।
১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান এখন তিনিই। বিশ্ব আসরে ২২ বছর বয়সের নিচে কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি এটি।
২০১৪ বিশ্বকাপে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২ বছর ১২৭ তিন বয়সে সেঞ্চুরি করে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইউভরাজের চেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন স্রেফ দুজন ব্যাটসম্যান। ফ্রান্সের গুস্তাভ মেকন ২০২২ সালে দুটি সেঞ্চুরি করেন তিন দিনের মধ্যে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে, নরওয়ের বিপক্ষে ১৮ বছর ২৮২ দিন বয়সে। ২০২৪ সালে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ১৯ বছর ৩০ দিন বয়সে শতরান করেন নাইজেরিয়ার সেলিম সালাউ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কানাডার সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানও ইউভরাজই।
ইউভরাজের বাবা বালজিৎ সিং সামরা ছেলের নাম রেখেছেন ভারতীয় গ্রেটকে দেখেই। এমনকি ছোটবেলায় ছেলেকে ডানহাতি থেকে বাঁহাতি বানিয়েও ফেলেছেন তিনি। ছেলে এখন বাবাকেই সত্যি প্রমাণ করে চলেছে।
এবারের বিশ্বকাপের আগেই প্রতিভার ঝলক নানা জায়গায় দেখিয়েছেন ইউভরাজ। গত বছর বাহামার বিপক্ষে ফিফটি করেছিলেন মাত্র ১৫ বলে। ঝড়ো ফিফটি করেছিলেন কেম্যান আইল্যান্ড ও বারমুডার বিপক্ষেও। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন অনেকটা। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেঞ্চুরি, সেটিও নিউ জিল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে!
বিশ্বকাপে আগের দুই ম্যাচে তিনি আউট হয়েছিলেন ১২ ও ৫ রান করে। কিন্তু নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং থেকে সরে আসেনি। কিউইদের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ওভারেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে চার মারেন ম্যাট হেনরির বলে। পরে বলে আরেকটি চার মারেন নান্দনিক শটে।
এরপর স্ট্রাইক পাননি ঠিকমতো। ৫ ওভার শেষে রান ছিল তার ১১ বলে ১১। ষষ্ঠ ওভারে জিমি নিশামকে টানা তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ডানা মেলে দেন। সেখান থেকে শুধু উড়তেই থাকেন উঁচু থেকে আরও উঁচুতে।
ফিফটি করেন তিনি ৩৬ বলে। সেখান থেকে কিউইদের পেস-স্পিন সব গুঁড়িয়ে পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন ২২ বলেই!
এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ২৯ ম্যাচে সেঞ্চুরি ছিল না একটিও। এরপর দুটি সেঞ্চুরি হয়ে গেল টানা দুই ম্যাচে। আগের রাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কার পাথুম নিসাঙ্কা।
সেঞ্চুরির পর আরেকটু এগিয়ে শেষ ওভারে থামেন তিনি ১১০ রান করে।
ও হ্যাঁ, যার নামে তার নাম, যাকে তিনি আদর্শ মানেন, সেই ইউভরাজ সিং কিন্তু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৩১ ম্যাচ খেলেও কখনও সেঞ্চুরি করতে পারেননি!












