কুমিল্লাশুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“রাজধানীতে কলেজছাত্রীর রহস্যময় মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার”

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ ৫:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরে সানজিদা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে মিরপুর-১০ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মিমকে দেখতে পান তারা। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সানজিদা ইসলাম মিম মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার চাঁদখালী এলাকায়। মিরপুর-১০ নম্বরের একটি বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি।

মিমের ভাই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বোন মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। সকালে পারিবারিক বিষয় নিয়ে অভিমান করে নিজ কক্ষে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয় সে। পরে আমরা দেখতে পেয়ে দ্রুত অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় ৪ নারীর মরদেহ উদ্ধার

এদিকে রাজধানীর বাড্ডা, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে আরও তিন নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালের মধ্যে এই অপমৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে আশা আক্তার (২৯) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই আব্দুল্লাহ আকাশ জানান, আশা একটি পার্লারে চাকরি করতেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। সেই সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরে অন্য এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই সম্পর্ক নিয়ে মানসিক টানাপোড়েনের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। বাবার নাম আব্দুল কালাম।

এদিকে, ডেমরার পূর্ববক্সনগর এলাকার একটি বাড়ি থেকে কোহিনূর (৩৬) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ডেমরা থানা পুলিশ। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়।

অপরদিকে, বাড্ডা থানার আফতাবনগর বাঘাপুর এলাকার একটি বাসা থেকে সুবর্ণা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড্ডা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, সুবর্ণা তার স্বামীর সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার রাতে তিনি গলায় ফাঁস দেন। রাত দেড়টার দিকে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তার গ্রামের বাড়ি নাটোরের সিংড়া উপজেলায়। বাবার নাম মো. আব্দুল মতিন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।