ইসলামী জীবন দর্শনে জাকাত কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি সমাজে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন এবং দরিদ্রদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বৈপ্লবিক ব্যবস্থা। পবিত্র রমজান মাসে মুমিনরা যখন তাদের আমল ও ইবাদতে ব্যস্ত থাকেন, তখন জাকাতের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
শারীরিক ইবাদত হিসেবে নামাজের মতো আর্থিক ইবাদত হিসেবে জাকাতও ফরজ করা হয়েছে। ইসলামে জাকাতকে দান বা দয়া হিসেবে দেখার প্রচলিত ভুল ধারণা থাকলেও, প্রকৃত শিক্ষা হলো এটি ধনীর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার—একটি অলঙ্ঘনীয় পাওনা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন যে, ধনীদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে জাকাতের গুরুত্ব এবং এর সামাজিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জাকাত সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে, দারিদ্র্য কমায় এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ বৃদ্ধি করে।
যে ব্যক্তির কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেও জাকাত আদায়ে অবহেলা করে, তাদের জন্য পরকালে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তাই সঠিকভাবে জাকাত প্রদান কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ঈমানের পূর্ণতার ও পরকালীন মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
এভাবে সমাজের প্রতিটি সচ্ছল ব্যক্তি জাকাত আদায় করলে দেশের অভুক্ত ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা হ্রাস পাবে, অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী হবে। রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলিমের উচিত সঠিক হিসাবের ভিত্তিতে জাকাত প্রদান করে দরিদ্র ও অভাবীদের সহায়তা করা, যাতে সম্পদ পবিত্র ও বরকতময় হয়।












