যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। দেশটির সঙ্গে উত্তেজনার বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত বার্তা ও পরে জনসম্মুখে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।
খামেনেয়ি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার বলেন যে তাদেরই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিকেও এমনভাবে আঘাত করা হতে পারে যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না।’
ইরানের উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমেরিকানরা সব সময় বলে যে তারা ইরানের দিকে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই যুদ্ধজাহাজ একটি বিপজ্জনক সামরিক সরঞ্জাম। তবে সেই যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক হলো এমন অস্ত্র, যা সেই জাহাজকে সাগরের তলদেশে পাঠাতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী মন্তব্যেরও জবাব দেন খামেনেয়ি। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ৪৭ বছরেও ইরানকে বিলুপ্ত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এটি একটি ভালো স্বীকারোক্তি। আমি বলছি, আপনারাও এটি করতে পারবেন না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনসহ দৃশ্যমান সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ইরানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ইরান। সেই মহড়ার কারণে প্রণালীটি কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কিছু অংশ বন্ধ করল ইরান। বিশ্বে ব্যবহৃত প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।












