যশোরে অপহৃত ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে জীবিত উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন আবেগঘন হয়ে ওঠে তার চার বছরের মেয়ে রিদার আকুতিতে। প্রেসক্লাব যশোরে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে মায়ের কোল থেকে মাইক্রোফোনের দিকে ঝুঁকে ছোট্ট রিদা কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন। বাবা আমাকে অনেক আদর করে। বাবাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না।” শিশুটির এই কথায় উপস্থিত সবার চোখ ভিজে ওঠে।
অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম (৪৮) যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে ওষুধের ব্যবসা করেন। তিনি শহরতলির সুজলপুর এলাকায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। পরিবার জানায়, গত সোমবার (২ মার্চ) রাতে দোকান বন্ধ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে চাঁচড়া রায়পাড়া পীরবাড়ি মোড়ে একটি সাদা প্রাইভেট কারে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকেই পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী প্রতিদিনের মতো তারাবির নামাজ শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সেদিন আর ফেরেননি। “তিন দিন ধরে আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। বড় মেয়ে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে, সেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমরা দ্রুত তাকে জীবিত ফিরে পেতে চাই এবং জড়িতদের গ্রেফতার দাবি করছি,” বলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার জানান, অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারে একাধিক টিম কাজ করছে। ঘটনাটি পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।












