মালয়েশিয়ার রমপিন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট লরির চালককে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশি ওই চালকের কোনও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং লাইসেন্স ছাড়াই তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এক টন ওজনের ওই লরিটিতে কীটনাশক নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আর দুর্ঘটনার পর এতে থাকা চারজন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনই প্রাণ হারান
সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইট টাইমস বলছে, মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি লরিচালককে তদন্তের স্বার্থে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। বেপরোয়া ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির কারণ হওয়ার অভিযোগে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট শরিফ শাই শরিফ মন্ডোই জানান, গত ১৭ জানুয়ারি দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে সংঘটিত দুর্ঘটনার সময় দাইহাতসু ব্র্যান্ডের লরিটি চালাচ্ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি। তার কোনও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।
এক বিবৃতিতে শরিফ শাই বলেন, দুর্ঘটনায় চালক অক্ষত ছিলেন। তবে আরোহী অন্য তিন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। পরে ওই লরিচালক বাংলাদেশির মূত্র পরীক্ষা করা হলে মাদকের কোনও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, বেপরোয়া বা বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে সড়ক পরিবহন আইনের ৪১(১) ধারায় মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার বিধান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে রমপিনের কামপুং পেরউইরা জয়ার কাছে জালান ফেলদা সেলানচার–ফেলদা রেডং সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বাংলাদেশি নিহত হন। নিহতরা হলেন ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ কাদের ও ৩০ বছর বয়সী মোহাম্মদ দালিম। তারা দুজনই তেলপাম বাগানের শ্রমিক ছিলেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরেক বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ আসকার।
শরিফ শাই জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর আসকারকে জোহরের সেগামাত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে মারা যান ৪১ বছর বয়সী এই প্রবাসী বাংলাদেশি।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, লরিচালক একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে লরিটি সড়কের বাম পাশের গিয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনায় সামনের আসনে থাকা কাদের এবং পেছনের যাত্রী দালিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে চালক কোনও আঘাত পাননি।
মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দুর্ঘটনায় জড়িত চারজনেরই মালয়েশিয়ায় বৈধ ভ্রমণ নথি ও কাজের অনুমতি ছিল। তারা সবাই একসঙ্গে লরিটিতে করে রমপিনের ফেলদা রেডং থেকে ফেলদা সেলানচার এলাকায় কীটনাশক নিয়ে যাচ্ছিলেন।
এদিকে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও কাউকে লরি চালানোর অনুমতি দেয়ার বিষয়ে গাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে আগেই জানিয়েছিল পুলিশ।












