মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই জটিল ও বহুমাত্রিক রূপ নিচ্ছে। একাধিক দেশ ও ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এক মাস পূর্ণ হওয়ার দিনে নতুন মোড় নেয়। শনিবার ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরাইল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যদিও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো সরাসরি সংঘাতে জড়াতে শুরু করেছে। একই সময়ে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশও তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের তথ্য জানিয়েছে, যা সংঘাতের বিস্তৃত পরিসরকে নির্দেশ করে।
এদিকে তেহরান ও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ইরান এসব ঘটনাকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা প্রতিরোধ জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখন আর একক সংঘাতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি বহুমুখী আঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো।
সব মিলিয়ে, ইরান ও তার মিত্রদের সক্রিয় ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়—তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্যের ওপর।


.












