কুমিল্লাশনিবার, ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে: সৌদির ঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত, ইরাকে বিধ্বস্ত কেসি‑১৩৫

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১৪, ২০২৬ ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নতুনভাবে সাজানো সংবাদ:

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমান বাহিনীর কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও রয়টার্স জানায়, হামলায় পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ায় বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে। তবে এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটেনি।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিতে হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার পশ্চিম ইরাকে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি কেসি‑১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে এবং এটি শত্রুপক্ষের হামলার ফল নয়।

জানা গেছে, ১২ মার্চ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৯৫০‑এর দশকে তৈরি কেসি‑১৩৫ বিমানগুলো এখনো মার্কিন বিমান বাহিনীর আকাশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে কুয়েত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলায় আরও সাতজন সেনার মৃত্যু হয়। এছাড়া ১ মার্চ কুয়েতের আকাশে ভুল বোঝাবুঝি থেকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর ঘটনায় তিনটি মার্কিন এফ‑১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখে, তবে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিকে ইরানের খারিগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরান তাদের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামো রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে

.