কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভিজিএফ কার্ডের ‘৩০ শতাংশ’ বিতর্ক: অডিও ফাঁসের পর ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ১৫, ২০২৬ ৮:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম (বিপ্লব) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামানের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যানের আরেকটি কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়েছে বলে জানা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মদাতি ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩৪৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কার্ডের মধ্যে সংসদ সদস্যের ‘৩০ শতাংশ’ অংশ হিসেবে ১ হাজার ৩টি কার্ড দাবি করেছিলেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান।

ফাঁস হওয়া কথোপকথনে ভিজিএফ কার্ডের ওই অংশ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির বিষয়টি শোনা যায়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান চেয়ারম্যানকে প্রশ্ন করেন, এমপি সাহেবের ‘৩০ শতাংশ’ বরাদ্দ তাদের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না। জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা বৈঠকে বসেছিলেন এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি দেখার কথা ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুজ্জামান দাবি করেন, মোবাইল রেকর্ডিংকে ঘিরে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার ভাষ্য, এমপি প্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকায় প্রকৃত হতদরিদ্রদের নামই রয়েছে এবং তারা নিজ নিজ উপস্থিতিতে ভিজিএফের চাল গ্রহণ করবেন।

অন্যদিকে একই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বিএনপির আরেক নেতা বিধান চন্দ্র রায় ফোনে কোনো মন্তব্য না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর গত বুধবার রাতে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যানকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

তবে চেয়ারম্যানের স্ত্রী রুমি বেগম অভিযোগ করেছেন, ভিজিএফ কার্ডের ‘৩০ শতাংশ’ বরাদ্দ নিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের জেরেই তার স্বামীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে এবং পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

.