কুমিল্লাশুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘরহারা তিন হাজার রোহিঙ্গা, পুড়ে ছাই ৪৫০টির বেশি ঘর

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ২০, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা ১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আগুনের সূত্রপাত হয়।

১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে ব্র‍্যাক এনজিও পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে (লার্নিং সেন্টার) প্রথম আগুন লাগলে পার্শ্ববর্তী শেডে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের প্রায় তিন ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও আগুনে পুড়েছে তিনটি ব্লকের ৪৫০টি ঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, ২টি মসজিদ ও ১টি মাদরাসা। পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোতে অন্তত তিন হাজার আশ্রিত রোহিঙ্গা বাস করতেন।

আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে আবাসস্থল হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। ডি-৪ ব্লকের সাব মাঝি (উপ কমিউনিটি নেতা) মোহাম্মদ হাশেম বলেন, রাতে ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ চিৎকার চেচামেচিতে কোনো রকম জান নিয়ে বের হয়েছি। সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আমার সাব ব্লকের একটি ঘরও অবশিষ্ট নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জুবায়ের বলেন, আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন, এখন প্রচুর শীত পড়ছে। ঠান্ডায় এমনিতেই কষ্ট হচ্ছিল তার উপর ঘরটাও হারাতে হয়েছে জানিনা কি করব।’

উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ফায়ারসার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নিনির্বাপণে কাজ করে, কি কারণে আগুন লেগেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিদুর্গত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সকালে ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায় এবং ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।