কুমিল্লাবুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্রাহ্মণপাড়ায় গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও এনজিও

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৬, ২০২৪ ৭:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো: নাঈম সরকার, ব্রাহ্মণপাড়া:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন পোভার্টি নামের একটি এনজিও ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে উধাও হয়েছে।

সোমবার অর্ধশত গ্রাহক ঋণের টাকা নিতে এসে অফিসে তালাবদ্ধ দেখে। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানায় অভিযোগ দাখিল করে।

জানা গেছে, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায় আবুল কাশেম মুহুরীর বাড়িতে ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন পোভার্টি নামের একটি এনজিও অফিস ভাড়া নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের গরিব ও অসহায় মানুষকে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঞ্চয় আদায় করে। সোমবার (১৫ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রাহক ঋণ নেয়ার জন্য এসে অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে তারা ইউএনও-এর কাছে অভিযোগ দাখিল করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তিরা ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন পোভার্টি নামের একটি এনজিওর পরিচয় দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নারীদের কাছে থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেয়। ঋণ প্রদানের ফাঁদে ফেলে এসব গ্রাহকদের কাছ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হারে এককালীন সঞ্চয় গ্রহণ করে তারা।

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, আমি প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমি এর বিচার চাই।’
আরেক ভুক্তভোগী জানান, ‘প্রতারকরা গত চার দিন আগে আমাদের গ্রামে এসে স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ ও পণ্য দেয়ার নামে কয়েকজনের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা নেয়। এখন শুনি এটি ভুয়া এনজিও। আমরা এই প্রতারকদেরকে খুঁজে বের করে তার দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি চাই।’

শাহ আলম বলেন, ‘আমরা সহজ সরল মনে ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন পোভার্টি নামে একটি এনজিও থেকে ঋণ পাওয়ার আশায় কয়েক হাজার টাকা সঞ্চয় দেই। ওই এনজিও থেকে আমাদের কয়েক লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা হয়, কিন্তু এখন দেখি সব ভুয়া।’

ভুক্তভোগীদের একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ অন পোভার্টি নামে এনজিওকে কিভাবে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই অপরিচিত ওই ব্যক্তিকে অফিস করার জন্য বাড়ি ভাড়া দিলো এবং কিভাবে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা হলো এর দায়-দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে আবুল কাশেম মুহুরী ও তার ছেলে মো: সৌরভ হোসেন জড়িত থাকতে পারে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করব, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের আইনদের আওতায় আনার জন্য।’

বাড়ির মালিক আবুল কাশেম মুহুরী কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’
সৈকত হোসেন বলেন, ‘অপরিচিত এক ব্যক্তি হঠাৎ করে এসে বলেন তার কয়েকটি রুম লাগবে অফিস করার জন্য। তারা ১৫ জানুয়ারি চুক্তি করার কথা ছিল। সে আমার শর্তে রাজি হলে তাকে আমি বলি, আপনি আপনার মালামাল রাখতে পারেন। কিন্তু চুক্তি না হওয়া আগেই তারা পালিয়ে যায়। গ্রাহকদের টাকার বিষয়ে আমরা জানি না।’
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম জানান, ‘একটি ভুয়া এনজিও গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলার সকলকে আহ্বান করব যেকোনো এনজিওতে টাকা লেনদেন করলে অবশ্যই নির্বাহী অফিসারের কোনো প্রত্যায়ন আছে কি-না ভালো ভাবে যাচাই করবেন। উপজেলাবাসীকে আরো সর্তক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।