রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পর তদন্ত শেষে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে সিআইডি। তদন্তে উঠে এসেছে, আগুন লাগার পর রেস্টুরেন্টের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে রাখায় অধিকাংশ মানুষ প্রাণ হারান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক জিসানের নির্দেশে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কোনো গ্রাহক বিল না দিয়ে বের হতে না পারেন। এতে ভেতরে আটকে পড়া মানুষ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে এবং পরে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ভবনটিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বললেই চলে। নিয়ম না মেনে একাধিক রেস্টুরেন্ট পরিচালনা, সিঁড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা রাখা এবং জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এমনকি ভবনের ওপরের তলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্টও নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ কেড়ে নেয়।
ঘটনার দিন বিশেষ ছাড়ের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভিড় ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে। আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বের হওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
সিআইডি জানায়, ভবনের নিচতলার একটি কফি শপের বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ৪৩ জন ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে এবং তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা যান।
এ ঘটনায় ভবনের মালিকপক্ষসহ ২২ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন, বাকিরা এখনো পলাতক।
কুমিল্লা প্রেস সংবাদ দেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সাবস্ক্রাইব করে কুমিল্লা প্রেসের সাথেই থাকুন।


.












