কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় মা-মেয়েসহ কুমিল্লার ৬ জন নিহত

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ২, ২০২৪ ১২:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের সাততলা ভবনে আগুনের ঘটনায় মা-মেয়েসহ কুমিল্লার ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে ভবনটিতে আগুন লেগে ৪৬ জন মারা যান। ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন। ভবন থেকে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত ৬ জন হলেন কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে নুসরাত জাহান (১৮) ও তার দুই খালাতো বোন লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের চরবাড়িয়া গ্রামের ফৌজিয়া আফরিন রিয়া (২২) ও সাদিয়া আফরিন আলিশা (১৩), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর গ্রামের গোলাম মহিউদ্দিনের স্ত্রী লুত্ফুন নাহার ও তার মেয়ে জান্নাতিন তাজরী এবং মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর গ্রামের জয়ন্ত পোদ্দারের স্ত্রী পম্পা পোদ্দার (৪৬)।

জানা যায়, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের নুসরাত জাহান (শিমু) দুই খালাতো বোনের সঙ্গে ওই ভবনের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। নুসরাতসহ তিন বোন অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন। নুসরাতের খালাতো বোন ফৌজিয়া মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন আর সাদিয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করতো।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর নুসরাতের জানাজা হয়েছে। সঙ্গে ওর দুই খালাতো বোনও মারা গেছে।

নুসরাতের বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, আগুন লাগার পর নুসরাত ফোন করে বলেছিল, আব্বু আমাকে বাঁচাও। আমাদের এখান থেকে বের করে নিয়ে যাও। মেয়েকে বাঁচাতে পারিনি, এর থেকে দুঃখের কিছুই হতে পারে না। পরে ওদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল থেকে সংগ্রহ করি।

একই ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর গ্রামের গোলাম মহিউদ্দিনের স্ত্রী লুত্ফুন নাহার ও মেয়ে জান্নাতিন তাজরী মারা গেছেন। লুত্ফুন নাহার ভিকারুন্ননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর চিকিৎসক দেখিয়ে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তারা মারা যান।

দুই মেয়ের জন্য রাতের খাবার নিতে ওই ভবনে গিয়েছিলেন গৃহবধূ পম্পা পোদ্দার (৪৬)। তিনি মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর গ্রামের জয়ন্ত পোদ্দারের স্ত্রী। জয়ন্ত পোদ্দার পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। এ দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে কানাডায় লেখাপড়া করে আর ছোট দুই মেয়ে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত।