ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশ্ব ইজতেমা লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে। তুরাগ নদীর তীরে ৫৮তম আসরের প্রথম পর্বের ইজতেমা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আমবয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এবার ৪১টি জেলা ও ঢাকার একাংশ নিয়ে প্রথম পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৬টি দেশ থেকে ১ হাজার ১০৭ জন বিদেশি অতিথি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত তাদের আগমন অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ইজতেমার বিদেশি খিত্তায় দায়িত্বরত একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্বের ৪৬টি দেশের ১ হাজার ১০৭ জন বিদেশি মেহমান ইজতেমা ময়দানে এসে নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন। এর মধ্যে উর্দু ভাষী ৭১৮ জন, ইংরেজি ভাষী ৩০০ জন এবং আরবি ভাষী ৮৯ জন রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মেহমান এসেছেন ভারত থেকে ৫১৯ জন, এরপর পাকিস্তান থেকে ১৭৭ জন এবং কিরগিজস্তান থেকে ১৩২ জন।
৪৬টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইথিওপিয়া, ভারত, ওমান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, কিরগিজস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, আলজেরিয়া, মিশর, সিঙ্গাপুর, জর্ডান ও রাশিয়া উল্লেখযোগ্য।
ইজতেমা প্রশাসন বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। বিদেশি মেহমানদের খিত্তাকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি খিত্তার পাশে পুলিশ, র্যাবসহ সকল বাহিনীর উপ-নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও ভ্রমণের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আমবয়ানের মাধ্যমে প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে ইতোমধ্যে লাখো মুসল্লি জড়ো হয়েছেন। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর উর্দুতে বয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক। বাংলায় তরজমা করছেন মাওলানা নুরুর রহমান। সকাল ১০টা থেকে তালিমি বয়ান শুরু হয়েছে। জুমার নামাজ পরিচালনা করবেন মাওলানা জুবায়ের। আনুষ্ঠানিকভাবে শুক্রবার ফজরের পর ইজতেমা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই মুসল্লিদের উপস্থিতির কারণে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
গত কয়েক বছর ধরে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষ মাওলানা জোবায়ের ও সাদ কান্ধলভী অনুসারীরা আলাদাভাবে দুই পর্বে ইজতেমা করতেন। তবে এবারই প্রথম মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা একাই দুই ধাপে ইজতেমা করছেন। এর মধ্যে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম ধাপের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ধাপে ৪১টি জেলা ও ঢাকার একাংশের মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন। এরপর ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ২ ও ৫ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাদের অনুসারীদের ইজতেমা পালনের কথা রয়েছে।
মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, সকাল থেকে তাবলিগের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ধাপে ধাপে বয়ান চলছে। এখনো দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা আসছেন। জুমার নামাজে অংশ নিতে আশপাশের এলাকার লোকজন ইতোমধ্যে আসা শুরু করেছেন।
ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইজতেমা মাঠসংলগ্ন র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইজতেমাকে ঘিরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তেমন নেই, একমাত্র দুপক্ষের আত্মকলহ ছাড়া। আশা করা হচ্ছে, সুন্দরভাবে ইজতেমা শেষ হবে।
ইজতেমার প্রথম ধাপে অংশ নিচ্ছেন গাজীপুর, নড়াইল, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুরা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং ঢাকার ডেমরা, কাকরাইল, মিরপুর, ধামরাই, দোহার ও নবাবগঞ্জ এলাকার মুসল্লিরা।












