কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা ও তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ২:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ, রুপা, অপরিশোধিত তেল ও তামাসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের সম্ভাবনায় বৈশ্বিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান কমিয়ে দেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে রুপা—দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, একই সঙ্গে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ডলারে নির্ধারিত হয়।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আইজি’র বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সপ্তাহজুড়ে মূল্যবান ধাতুসহ বিভিন্ন পণ্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা গেছে। এখন বাজারে তারই ‘পরবর্তী ধাক্কা’ কাজ করছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা আবারও শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এতে বিশেষ করে তেলের বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমে গেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর বাণিজ্য উত্তেজনাও কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা উচ্চ দামে স্বর্ণ বিক্রির দিকেই ঝুঁকছেন।

এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এশীয় লেনদেনে ডলার স্থিতিশীল ছিল। ডলারের সূচক দুই সপ্তাহের উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য পণ্য আমদানি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করে।

এর আগে সপ্তাহের শুরুতেও পণ্যের দামে চাপ দেখা যায়, যখন ট্রাম্প কেভিন ওয়ার্শকে সম্ভাব্য ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেন। কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কা ডলারকে আরও শক্তিশালী করে এবং সুদহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রূপার আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শুক্রবার ওমানে বৈঠকে বসতে সম্মত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।

তামার দামও চাপে রয়েছে। চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের গুদামে মজুত বাড়ার খবর বাজারকে নেতিবাচক করেছে। যদিও এর আগে চীন কৌশলগত তামা মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা জানানোয় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

ওসিবিসি ব্যাংকের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, বাজারে তারল্য কম থাকায় এক খাতের বিক্রি দ্রুত অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে পতন আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। এই প্রভাব মূল্যবান ধাতু, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আঞ্চলিক শেয়ারবাজারেও দেখা যাচ্ছে।

অন্য পণ্যের বিপরীতে সয়াবিনের দাম বেড়ে দুই মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে। ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে—এই প্রত্যাশায় বাজার চাঙ্গা হয়েছে। অন্যদিকে উচ্চ মজুতের চাপে লৌহ আকরিকের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।