কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিমান হামলার পর গাজায় স্থল অভিযান জোরদার ইসরাইলের

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ২০, ২০২৫ ২:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

গাজায় বিমান হামলা চালিয়ে ৯৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর ইসরাইলি বাহিনী এবার স্থল অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তাদের সেনারা গাজা উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিভক্তকারী নেটজারিম করিডোর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গাজায় পুনরায় স্থল অভিযান তীব্র করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজায় নতুন করে হামলা জানুয়ারি থেকে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, দেইর আল-বালাহ এলাকায় তাদের দপ্তর প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণে এক কর্মীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। ইসরাইল এই ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে, তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।

গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত হানুনসহ যেসব এলাকায় ইসরাইলি সেনারা অগ্রসর হচ্ছে, সেসব এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, আইডিএফ ওই অঞ্চলের স্থল সীমান্তের তিন পাশে বিশাল এলাকা খালি করার আদেশ জারি করেছে, যা শীঘ্রই বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আদেশের কারণে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক পরিবার যুদ্ধের কারণে আগেও বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন এবং যুদ্ধবিরতির সময় তারা বাড়ি ফিরেছিলেন। এখন আবার তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছাড়ছেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ গাড়িতে করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

বুধবার ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনকে ‘শেষবারের মতো সতর্ক’ করে বলেছেন, বাকি জিম্মিদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ইসরাইল দাবি করছে, হামাস এখনও ৫৯ জনকে জিম্মি করে রেখেছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যালান্ট হামাসকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ দিয়ে বলেছেন, যদি তাদের দাবি মানা না হয়, তবে গাজা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত হবে।

বুধবার দেইর আল-বালাহ এলাকায় জাতিসংঘ দপ্তর প্রাঙ্গণে এক কর্মী নিহত হওয়ার পর ইসরাইলি স্থল সেনাদের তৎপরতা বাড়ানোর খবর আসে। জাতিসংঘের অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) জানিয়েছে, তাদের ভবনে বিস্ফোরক ফেলা বা ছোড়া হয়েছে। তবে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইউএনওপিএসের প্রধান জর্জ মোরেইরা দা সিলভা বলেছেন, তিনি মনে করেন এটি দুর্ঘটনা নয়। গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে উল্লেখ করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত ১৯ জানুয়ারি থেকে দুর্বল যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি কার্যকর ছিল। মঙ্গলবারের বোমাবর্ষণকে এই যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। বুধবারও বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। বিবিসি লিখেছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ উত্তরণে ইসরাইল ও হামাস একমত হতে ব্যর্থ হয়েছে, যার আলোচনা ছয় সপ্তাহ আগে শুরু হওয়ার কথা ছিল। ইসরাইলের শর্তে নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য হামাস সম্মত হয়নি। তবে তারা বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে জীবিত এক আমেরিকান জিম্মি এবং চারটি মৃতদেহ মুক্ত করতে রাজি হয়েছিল।

হামাসকে চাপে রাখতে মার্চের শুরুতে গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ইসরাইল। ইসরাইল এখন সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হামাসকে চাপে ফেলতে চাইছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। তাদের মধ্যে ২৫ জন যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্বে জীবিত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছে। এর জবাবে ইসরাইল যে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে, তাতে সাড়ে ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক পরিমাণে বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।