শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেওয়া এক ভাষণে খামেনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।’ তিনি এসব মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। খবর বিবিসি
ভাষণে খামেনি আরও বলেন, ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একজন ‘অপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে’।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দাবি করেন, ‘আমেরিকার লক্ষ্য হলো ইরানকে গ্রাস করা।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি-এর মতে, সহিংস দমন-পীড়নে ৩ হাজার ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে কিছু অধিকারকর্মী সংগঠন বলছে, নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে’ আহ্বান জানান এবং নিরাপত্তা বাহিনী যদি তাদের হত্যা করে, তবে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন। ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক ইস্যুতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নেয়।
ইরানি সরকার এই বিক্ষোভকে দেশটির শত্রুদের মদদে হওয়া ‘দাঙ্গা’ বলে অভিহিত করেছে।
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভে গুলি চালাচ্ছে—এমন ভিডিও ফুটেজ বিবিসি পার্সিয়ান ও বিবিসি ভেরিফাই উভয়ই যাচাই করে নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া ইরানে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সাধারণ সময়ের তুলনায় ইন্টারনেট সংযোগ মাত্র ২% ছিল বলে জানিয়েছে সাইবার মনিটরিং সংস্থা নেটব্লকস।
সাম্প্রতিক দিনে অস্থিরতার খবর কিছুটা কম পাওয়া গেলেও, ইন্টারনেট সীমাবদ্ধ থাকায় পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট নয়।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের শিরাজ শহরের এক নারী বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী এখনো মোটরবাইকে টহল দিচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে, তবে সামগ্রিকভাবে অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।’
ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি এবং বিবিসি এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শনিবার জানায়, তারা এমন প্রতিবেদন পেয়েছে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার বিকল্প প্রস্তুত করছে।
তারা সতর্ক করে বলে, এমন হামলা হলে ইরানকে অত্যন্ত শক্তিশালী শক্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং তেহরানকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে খেলাধুলা না করতে’ বলা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুধবার বলেন, তাকে জানানো হয়েছে ‘ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে’, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেননি।
এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কর্মীসংখ্যা কমানোর পর। বিবিসির যুক্তরাষ্ট্র অংশীদার সিবিএসকে কর্মকর্তারা জানান, আংশিক মার্কিন প্রত্যাহার ছিল একটি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’।












