কুমিল্লাবৃহস্পতিবার, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিক্ষোভে প্রাণহানি বেড়ে হাজারে, মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও সাবেক নেতারা

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ ৩:১৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ইরানের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা। যাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে কারাবন্দি বা গৃহবন্দি আছেন।

২০০৯ সাল থেকে গৃহবন্দি থাকা ইরানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মীর হোসেন মুসাভি ইরানি কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন যে জানুয়ারিতে বিক্ষোভ চলাকালীন হত্যাকাণ্ড একটি বিপর্যয় যা কয়েক দশক ধরে, স্মরণ করা হবে।

ইরান সরকার দাবি করেছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। সরকার জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাগুলো বলছিল, রাষ্ট্রীয় বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে ছিল; যার অধিকাংশই ৮ এবং ৯ জানুয়ারি রাতে সংঘটিত হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মীদের সংবাদ সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৮৫৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে।

২০০৯ সালের সবুজ আন্দোলনের পর থেকে গৃহবন্দি ছিলেন ইরানের সাবেক সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মীর হোসেন মুসাভি । তিনি বলেছেন, ‘বছরের পর বছর ধরে ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের পর, এটি এমন একটি বিপর্যয় যা কয়েক দশক ধরে মানুষ মনে রাখবে।

মানুষকে কতভাবে বলতে হবে যে তারা এই ব্যবস্থা চায় না এবং তোমাদের মিথ্যা বিশ্বাস করে না? যথেষ্ট হয়েছে। খেলা শেষ।

বলেন মুসাভি।

মুসাভি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের বন্দুক নামিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে যাও। যাতে জাতি নিজেই এই ভূমিকে স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধিতে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে আরেকটি যুদ্ধের ছায়ার মধ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই এটি করা উচিত।

ইরানের জন্য একটি সাংবিধানিক গণভোট এবং শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা  জানায়, দেশের দেশি-বিদেশি ৪০০ কর্মীর একটি দল মুসাভির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে।

প্রখ্যাত কারাবন্দি সাবেক সংস্কারবাদী রাজনীতিবিদ মোস্তফা তাজজাদেহ বলেছেন, তিনি চান ‘ইরান ইসলামী আইনবিদদের অভিভাবকত্ব এবং ধর্মযাজকদের ব্যর্থ শাসন ইরানি জাতির উপর যে ভয়াবহ পরিস্থিতি আরোপ করেছে তা শেষ হোক।

গত সপ্তাহে কারাগার থেকে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার বিষয়টি সকল নাগরিক এবং রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিরোধ, প্রজ্ঞা এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীল এবং গত মাসে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘নৃশংসতার’ প্রকৃত দিকগুলো উন্মোচনের জন্য একটি স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, অন্যান্য সাবেক হেভিওয়েটরা ইরানের বর্তমান পথের তীব্র সমালোচনা করেছেন, কিন্তু ক্ষমতা থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে কার্যকরভাবে অপসারণের আহ্বান এড়িয়ে গেছেন।

এর আগে ডিসেম্বরে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট থেকে ভয়াবহ বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালালে আন্দোলন সরকার পতনের দিকে চলে যায়। ওই সময় হাজার হাজার মানুষ নিহত হন।