ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধী দল হিসেবে প্রথমবারের মতো আজ রাজপথে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের জনরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ডাকা এই প্রথম কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে জোটটি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমাবেশ ঘিরে পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বড় ধরনের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষোভে অংশ নিতে রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম বাড়াতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেছেন। ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য দলগুলোও গত দুই দিন ধরে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তৎপরতা চালিয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে একাধিক উপকমিটি কাজ করছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেবেন।
তিনি আরও বলেন, “বিপুল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা সরকারকে এই বার্তা দিতে চাই যে জনাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বরদাশত করা হবে না। কোনো অজুহাত বা আইনি অপব্যাখ্যা দিয়ে গণভোটের জনরায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন জানান, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদে আজকের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের ঢল নামবে। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংসদ পরিচালনায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে।
হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কারই করতে হবে। সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে সরকার। জনগণের রায় মূল্যায়ন না করলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই।”
এরও আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত।” উল্লেখ্য, গত বুধবার সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা না করা এবং জুলাই সনদ আদেশ জারি না করার প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
কুমিল্লা প্রেস সংবাদ দেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সাবস্ক্রাইব করে কুমিল্লা প্রেসের সাথেই থাকুন


.












