কুমিল্লারবিবার, ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘বাংলাদেশে এখনও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি’

প্রতিবেদক
Cumilla Press
মার্চ ২৫, ২০২৫ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!


ডেস্ক রিপোর্ট:

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং একটি সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু আজও স্বাধীন বাংলাদেশে সেই ন্যায়সংগত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মন্তব্য করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘকাল ধরে এ দেশের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাট ও গুম-খুনের মাধ্যমে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।”

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই হারাতে দেব না।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠান আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, মরণোত্তর পুরস্কারের চেয়ে জীবিত অবস্থায় সম্মাননা প্রদান অনেক বেশি অর্থবহ। যাকে আমরা মৃত্যুর পর সম্মান দিচ্ছি, তিনি তা অনুভব করতে পারছেন না।”

তিনি প্রস্তাব করেন, “আমাদের উচিত ভবিষ্যতে এমন একটি নিয়ম করা, যাতে মরণোত্তর পুরস্কারের তালিকা শেষ করে জীবিত ব্যক্তিদেরই প্রথমে সম্মাননা দেওয়া হয়। যারা জাতিকে মহান উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাদের জীবদ্দশায়ই সম্মান জানানো উচিত।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে আমরা কেবল তাদেরই সম্মানিত করছি না, বরং তাদের মাধ্যমে গোটা জাতি সম্মানিত হচ্ছে। এই ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাদের জীবিত অবস্থায় স্বীকৃতি না দিলে আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হব।”