কুমিল্লাসোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: জিয়া পরিবার নাকি স্থানীয় নেতৃত্ব—কার হাতে যাবে

প্রতিবেদক
Cumilla Press
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন—বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭—থেকে জয়ী হওয়ার পর আইন অনুযায়ী একটি আসন রেখে অন্যটি ছেড়ে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি ধরে রাখায় বগুড়া-৬ শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ফলে এই আসনে উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশের মত, আসনটি ধরে রাখতে হলে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা প্রয়োজন। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।

অন্যদিকে জিয়া পরিবারের বাইরেও একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সভাপতি ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

দলীয় সূত্রগুলোর মতে, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের হিসাব বিবেচনায় নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ হবে না। এ অবস্থায় জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দিলে আসনটি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি ডা. আফসারুল হাবীব বলেন, আসনটি রক্ষায় জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে। তবে তা সম্ভব না হলে ডা. পাভেলকে বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ বলেন, জিয়া পরিবারের বিকল্প নেই। তবে বিকল্প ভাবতে হলে রেজাউল করিম বাদশা বা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমানের নাম সামনে আসতে পারে।

জেলা বিএনপির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রোকন তালুকদার মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে জিয়া পরিবারের বাইরে প্রার্থী দিলে ঝুঁকি থেকেই যাবে। একই ধরনের মত দিয়েছেন বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ-উন-নবী সালাম ও কে এম খায়রুল বাশার। তাদের ভাষ্য, সদরের ভোটাররা যেহেতু সরাসরি দলের চেয়ারম্যানকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তাই উপনির্বাচনে অন্য প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন চাওয়া কঠিন হতে পারে।

জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাদেরও অনেকে একই মত প্রকাশ করেছেন। তবে তারা বলছেন, জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের মধ্যে ডা. পাভেল ও রেজাউল করিম বাদশা তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকতে পারেন।

এদিকে বগুড়া-৭ আসনের কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন না পাওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ততটা সক্রিয় ছিলেন না। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে লালু দাবি করেন, তিনি সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থাকবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তিনি তা মেনে নিয়ে কাজ করবেন।

সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনে তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন; সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের আবিদুর রহমান।