ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রতি কিয়েভের অবস্থান ছিল স্পষ্টভাবে তেল আবিবপন্থি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন জানান এবং ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা বলেন, ইউক্রেনবাসী ইসরায়েলিদের ‘ব্যথা ও বেদনা ভাগাভাগি করে নেয়’। সে সময় কিয়েভজুড়ে বিলবোর্ডে ইসরায়েলি পতাকাও প্রদর্শিত হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যায়। গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত নির্বিচার হামলা, বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অবরোধজনিত দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি অনেক ইউক্রেনীয়কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে গাজায় পরিকল্পিত অনাহারের দৃশ্য অনেকের কাছে সোভিয়েত আমলের ‘হলোদোমর’-১৯৩০-এর দশকের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, যাকে ইউক্রেন রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমকে ইউক্রেনীয় গবেষক ইউলিয়া কিশচুক জানান, অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রায় ৩০০ ইউক্রেনীয় গবেষক, শিল্পী ও অ্যাক্টিভিস্ট একটি খোলা চিঠিতে সই করেন। কিয়েভে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভও হয়েছে এবং মূলধারার গণমাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা নিয়ে আলোচনা বাড়ে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোতে রুশ হামলার কারণে এই প্রতিবাদ-আন্দোলনে কিছুটা ভাটা পড়ে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ও একতরফা ভূমিকাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন এবং ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ ঘিরে চুক্তির ফলে অনেক ইউক্রেনীয় এখন যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত মিত্র নয়, বরং একটি ‘স্বার্থসন্ধানী শক্তিধর দেশ/মিত্র’ হিসেবে দেখছেন। এই অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে ইউক্রেনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেতে সহায়তা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এমন পরিবর্তনের প্রতিফলন কূটনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠে। জেলেনস্কি ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে বলেন, ইউক্রেন দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান সমর্থন করে। একই বছর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবিক সহায়তাও পাঠায় কিয়েভ।
যুদ্ধের মাঝেও ইউক্রেনে আশ্রয় নেয়া গাজাবাসী শিক্ষার্থী আইশা আরোগির ভাষায়, ‘যুদ্ধের চেহারা সবখানেই এক’। আর ইউক্রেনে ফিলিস্তিন নিয়ে কথা বললে প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হলেও, সহমর্মিতার জায়গাটি আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত হয়েছে-যা একসময় অকল্পনীয় ছিল।












