যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রাণালী দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ইরান যুদ্ধের ১৪তম দিন আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন মতে, তেলবাহী জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি পার হতে সাহায্য করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা সেটা করব। তবে আশা করছি পরিস্থিতি ভালোই যাবে। কী হয়, তা দেখা যাবে।’
যদিও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখনও প্রস্তুত নয় দেশটির নৌবহর। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী সফলভাবে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে গেছে।
ওই খবরের পর তেলের দাম কমে গিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করে যে, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো ট্যাঙ্কার পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়নি। এরপর এই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে তেলের দাম আবারো বেড়ে যায়।
বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, ‘এটি শিগগিরই ঘটবে, কিন্তু এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আমরা প্রস্তুত নই। আমাদের সকল সামরিক শক্তি এখন ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা এবং তাদের সামরিক সরঞ্জাম তৈরির শিল্প ধ্বংস করার দিকে মনোনিবেশ করছে।’
এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পরই হরমুজ প্রাণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এই অবরোধ এখনও অব্যাহত রয়েছে। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। আজ শুক্রবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহে তাদের ওপর অতি কঠোরভাবে আঘাত করতে যাচ্ছি।’
এদিকে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে। একই সময়ে লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও নতুন হামলার মধ্যে কিছু এলাকায় জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল।
ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও। আজ ওমানের সোহার প্রদেশে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা।
সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাজধানী রিয়াদসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে আরও আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরাকে একটি জ্বালানি বহনকারী সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন ক্রুর মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন।


.












