জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় বাবার লাশ নেওয়া হয় কারাফটকে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এমন ঘটনা ঘটেছে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন অনেকেই।
ভৈরবের শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লার চর গ্রামের ফুল মিয়ার বড় সন্তান মিলন মিয়া
বাবা ফুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি।
তবে বাবার লাশ কারাগারে নিয়ে ছেলেকে শেষবারের মত দেখানোর অনুমতি মেলে।
জানা গেছে, মিলন মিয়া পেশায় ইট-বালু ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই, তবে সমর্থক। কোনো মামলায় তার নাম না থাকলেও ২০২৪ সালে আটক করে ভৈরব থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে বাবার লাশ কারাগারে নিয়ে ছেলেকে শেষবারের মত দেখানোর অনুমতি মেলে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মিলনের জামিন মঞ্জুর হলেও কারাগার থেকে মুক্তি না দিয়ে ২৬ জানুয়ারি মিলনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারেই আটকে রাখা হয়।
মিলনের আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন জানান, মঙ্গলবার সকালে মিলনের বাবা মারা গেছেন বলে খবরটা তাকে জানানো হয়। এদিন দুপুরে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার কাছে মিলনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানালে আবেদনটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের কাছে পাঠানো হয়। এরশাদুল আহমেদ মঙ্গলবার রাতে আইনজীবীকে জানান, প্যারোল মঞ্জুর করা সম্ভব নয়, লাশ কারাফটকে নিয়ে মিলনকে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় কারা ফটকে গিয়ে দেখা গেছে, মিলনের চাচা হাজী মতিউর রহমান, ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ স্বজনরা ফ্রিজিং ভ্যানে করে ফুল মিয়ার লাশ নিয়ে এসেছেন মিলনকে শেষবারের মতো দেখানোর জন্য।
চাচা মতিউর রহমান বলেন, আমার ভাতিজা আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে ছিল না। হয়ত সমর্থন করত। কোনো মামলায় মিলনের নামও নেই। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পরে মামলায় নাম ঢোকানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমার বড় ভাই ফুল মিয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার অবস্থা খারাপ হলে ভৈবর হাসপাতালে নেওয়ার পর সকালে মারা যান।
তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শুনেছি আসামিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু মিলনের জন্য চেষ্টা করেও প্যারোলে বের করে বাড়ি নেওয়া গেল না। বাবার লাশ নিয়ে আসতে হলো কারাগারে। এ ধরনের ঘটনা কোনোদিন দেখিনি!
তিনি জানান, বাবার লাশ দেখে মিলন ডুকরে ডুকরে কেঁদেছে। দুপুরের পর দাফন করতে হয়। জানাজায় মিলন থাকতে পারল না।
মিলনের প্যারোলে মুক্তি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু এরশাদুল আহমেদ এ ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন।
এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না হওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। ফলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখেন তিনি।












