কুমিল্লাবুধবার, ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনায় কে কে থাকছেন

প্রতিবেদক
Cumilla Press
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা প্রস্তাব দেয় দেশটি। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানের আইএসএনএ নিউজ এজেন্সি-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানের আলোচক দলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ডেডলাইন শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত হয়। ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা হতে পারে।

এই চুক্তিটি হয়েছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়। গত কয়েক দিনে দেশটি সক্রিয়ভাবে উত্তেজনা কমাতে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বৃহত্তর সমঝোতা করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।

উভয় পক্ষের সব শর্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়াই এই চুক্তির প্রধান শর্ত। 

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা হামলার পাশাপাশি নিজেদের ঘরের উঠানের হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। 

একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি নেয়ার অধিকার পেতে চাইছে ইরান। যা এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এরই মধ্যে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, এখন থেকে এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ আদায় করা হবে এবং সেই অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ব্যয় করা হবে। কারণ চলমান সংঘাতে দেশের প্রতিরক্ষা, প্রশাসনিক এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ওই কর্মকর্তার মতে, জাহাজের ধরন, বহন করা পণ্য এবং অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে, তবে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।

গত সপ্তাহে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, তেহরান ওমানের সঙ্গে একটি প্রোটোকল তথা নীতিমালা তৈরির কাজ করছে, যাতে জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী পার হতে অনুমতি ও লাইসেন্স নিতে হয়। তার দাবি, এই পদক্ষেপ চলাচল সীমিত করার জন্য নয়, বরং সহজ করার উদ্দেশ্যে নেয়া হচ্ছে।