তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, বিশ্বের কোনো নেতাই আর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাখে ছবি তুলতে চান না। আগ্রাসী সামরিক নীতি অনুসরণ করে তিনি তার দেশকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে এনেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইস্তাম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিদান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এটা শুধু তুরস্কের জন্য নয়, বিশ্বের অনেক দেশের জন্য।
গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান ও গণহত্যার কথা উল্লেখ করে ফিদান বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত এটি চলতে থাকবে, ততক্ষণ কেবল আমাদের জন্য নয় বরং অনেক দেশের জন্য ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অসম্ভব।’
টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলেছে, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক বৃহত্তর কূটনৈতিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করে যেখানে ইসরাইলের নেতৃত্ব কেবল সরকার নয়, বরং ইউরোপের অধিকার গোষ্ঠী এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর সাথে প্রকাশ্যে যোগাযোগ করতে ইউরোপীয় নেতাদের দৃশ্যমান অনীহার দিকটি তুলে ধরে ফিদান বলেন, খুব কম নেতাই ইসরাইলে ভ্রমণ করতে বা তার (নেতানিয়াহু) সাথে ছবি তুলতে ইচ্ছুক। এখন আর কেউ (ইসরাইলে) যাচ্ছে না।’ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কেন তারা যাচ্ছেন না? কারণ ইউরোপীয় নেতারা নির্বাচিত। তারা জানেন যে, তার সাথে ছবি তোলা ঠিক নয়।’
ফিদান বলেন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি নির্ধারক উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ নেতারা তাদের ভোটারদের প্রত্যাশা ও সংবেদনশীলতার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক যোগাযোগকে মূল্যায়ন করেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দূরত্বকে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নেতানিয়াহু কি বাস্তবসম্মতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে কোনো দেশ সফর করতে পারবেন। এর মানে এই যে ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও ক্রমবর্ধমানভাবে তার ব্যাপারে সতর্ক হয়ে উঠছেন।
ফিদানের কথায়, ‘তিনি কি আমেরিকার বাইরে কোথাও যেতে পারেন? তিনি পারবেন না। হয়তো তিনি গ্রীসে আসবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযানের তীব্র বিরোধিতাও করেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে এই সংকট নিরসনে আঙ্কারা তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো তাদের নিজেদেরই সমাধান করতে হবে।











