ডেস্ক রিপোর্ট:
সচিবালয়ে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, এটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। আমরা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।”
এদিকে সরকার পূর্বের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি বাতিল করে নতুন আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে আহ্বায়ক ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সদস্য সচিব করে এই কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন কমিটির সদস্যরা হলেন- পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক তানভীর মনজুর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রাসেল, বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াছির আরাফাত খান এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খান।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ২টা ৫৮ মিনিটে, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, ভবনের ৬, ৭, ৮ এবং ৯ তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে অষ্টম এবং নবম তলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি পুড়ে গেছে।
ওই ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দপ্তর ছিল।
পরিবেশ এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গান পাউডার ব্যবহার করে নাশকতা ঘটানো হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিতে একজন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।












