আফগানিস্তান-এর পূর্বাঞ্চলীয় নাঙ্গারহার প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলায় অন্তত ১৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তালেবান প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু রয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তালেবান কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নাঙ্গারহারের বেহসুদ জেলায় এক কৃষকের বাড়িতে শনিবার দিবাগত রাতে বিমান হামলা চালানো হয়। তালেবান প্রশাসনের দাবি, হামলায় বাড়িটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। আহত পাঁচজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে কাবুল। এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উপযুক্ত সময়ে ‘যথাযথ ও পরিমিত’ জবাব দেওয়া হবে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক হতাহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তান-এর গণমাধ্যম দেশটির কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, ইসলামাবাদের একটি ইমামবাড়ায় হামলা এবং বাজাউর ও বান্নুতে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী বিস্ফোরণের প্রেক্ষিতে সীমান্তবর্তী সাতটি ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। এতে তালেবান কমান্ডার আখতার মুহাম্মদসহ কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে। ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে তারা Tehrik-i-Taliban Pakistan (টিটিপি) ও Islamic State – Khorasan Province (আইএসকেপি)-এর সাতটি ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানোর কথা জানায়।
তবে কাবুল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বেসামরিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা পাকিস্তানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ তাদের অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করা হয়।
এর আগে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও এক সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তান সতর্ক করে জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত কোনো হামলাই জবাবহীন থাকবে না।












