কুমিল্লাশনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন তথ্যে হাদি হত্যার মামলা, সিআইডি তদন্তে প্রবেশ

প্রতিবেদক
Cumilla Press
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ‘মূল রহস্য’ আড়াল করা হয়েছে–এমন অভিযোগে বাদীর করা নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করলে এ নিয়ে দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, আদালত পুনঃতদন্ত করে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

আদালতে শুনানি চলাকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ডিবি পুলিশের তদন্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাদি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন না করেই অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে চার্জশিট জমা দেয়া হয়েছে।

ডিবির প্রতিবেদনে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে এই হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে দেখানো হলেও বাদীপক্ষের দাবি, এত সুপরিকল্পিত ও বড় মাপের একটি হত্যাকাণ্ড শুধু একজন কাউন্সিলরের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এর নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী কোনো চক্র রয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্ত কর্মকর্তা তার কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেননি। এমনকি একজন অপেশাদার ব্যক্তি কীভাবে এত সূক্ষ্মভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটালো, সে কার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেল কিংবা কার মদতে এই অপরাধে জড়াল, সে বিষয়েও চার্জশিটে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়নি। খুনিকে পালাতে যারা সাহায্য করেছে, তাদের প্রকৃত স্বার্থ ও সংশ্লিষ্টতা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম ১৭ জনকে আসামি করে এই চাঞ্চল্যকর মামলার চার্জশিট জমা দেয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর গত ১২ জানুয়ারি বাদীপক্ষ চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত আজকের দিনটি ধার্য করেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ শেষে আদালত ডিবি পুলিশের পরিবর্তে সিআইডিকে পুনরায় তদন্ত করে সত্য বের করে আনার নির্দেশ দিলেন।